জিপিএ বনাম স্কিল

পরীক্ষায় ভালো নম্বর না পাইলে, সেমিস্টারের শুরু থেকে ফার্স্ট বেঞ্চে বসবেন। টিচার কাশি দিলেও সেটা ক্লাসনোটে তুলবেন। পুরা সেমিস্টার অমানুষের মত রাত-দিন পড়ালেখা করবেন। বস্তা ভরে নম্বর পাবেন। পাশ করলে দুই-একটা চাকরিও পেয়ে যাবেন। আর কিছু দিন পরে কঠিন কঠিন ইংরেজি শব্দ মুখস্থ করে, রেডিমেড গার্মেন্টস এর মত ইউরোপ-আম্রিকায় এক্সপোর্ট হয়ে যাবেন।

তবে, দেশে চাকরি করা টার্গেট হইলে, জিপিএ দিয়ে কিছু যাবে আসবে না। নতুন নতুন পাশ করে ইন্টারভিউ দিতে গেলে হয়তো জিপিএ দেখবে, ভার্সিটি কোনটা দেখবে। দুই বছর পরে আর কেউ জিপিএ বা ভার্সিটি কোনটা জিগ্যেস করবে না। বরং দেখবে কে কত ভালো কাজ জানে। কে দ্রুত কাজটা শেষ করতে পারবে। কে টিমের অন্য মেম্বারদের মোটিভেট করে কাজ করায় নিতে পারবে। নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে এসে, সেগুলা ইমপ্লিমেন্ট করে ফেলতে পারবে। এই গুণাবলি গুলা অবজেক্টিভের গোল্লা দাগিয়ে, আগ্নেয় শিলা আর পাললিক শিলার পার্থক্য পড়ে শিখতে পারা যায় না। এগুলা শিখতে গেলে পাঠ্য বইয়ের বাইরের দুনিয়ার সাথে মেলামেশা করতে হবে। নতুন কিছু করার ট্রাই করতে হবে। তাই কোন একটা ভলান্টিয়ার অর্গানাইজেশনে কাজ করতে গিয়ে বা নিজের ভালো লাগে এমন কোন একটা প্রজেক্টের পিছনে টাইম দিতে গিয়ে অথবা স্পেশাল কিছু শিখতে গিয়ে কিংবা নিজে নিজে কোন একটা বিজনেস দাড় করানোর চেষ্টা করতে গিয়ে কেউ যদি C বা D গ্রেড পেয়ে কোন রকমে টেনেটুনে পাশ করে, তার টেনশন করার কিচ্ছু নাই। বরং ২৭ পাতা গরুর রচনা মুখস্তকারীর চাইতে তার ফিউচার বেশি উজ্জ্বল।

তবে আমাদের সমস্যা হচ্ছে ,আমরা ক্লাসের পড়াও ঠিক মত পড়ি না আবার ভালো লাগা কোন কিছুর পিছনেও লেগে থাকি না। খালি হাবিজাবি আকাম কুকাম করে, ভাল্লাগেনা বলে, আজাইরা টাইম নষ্ট করে ফেলি আবার পরীক্ষায়ও ডাব্বু মারি। এমন করলে তো, হবে না, বাপু। হয় পড়ালেখা, না হয় প্রাকটিক্যাল স্কিল বা লিডারশীপ এক্সপেরিয়েন্স অর্জন করতে হবে। আর দুইটার কোনটাই করতে ইচ্ছে না করলে, চরম ঘৃণার কোন মানুষকে তেল মারা প্রাকটিস করতে হবে। তাইলে অন্তত বসকে তোষামোদ করে চাকরি টিকায় রাখা যাবে এবং মাঝে মধ্যে প্রমোশনও পাওয়া যাবে।

 

সুত্রঃ ঝংকার মাহবুব

Leave a Reply