ভার্সিটি লাইফের চারটা পার্ট

ভার্সিটি লাইফে চারটা পার্ট থাকে। প্রথম পার্টে সবাই ফ্যাকাল্টি হবার স্বপ্ন দেখে। কয়দিন পরে সেমিস্টার ফাইনালে ডাব্বু মেরে, ফার্স্ট হবার স্বপ্ন চাঙ্গে উঠলে, নিত্য নতুন সখ এসে চুলকানি মারে। ফটোগ্রাফি, ফ্রিলাঞ্চিং, ইউটিউবে ভিডিও বানানো, সাইক্লিং সহ হাজার খানেক সখের তেল কমে গেলে, পোলাপান সখী খোঁজে। সখী খুঁজতে খুঁজতে, আশেপাশের সবাইরে অসুখী বানিয়ে, হাজার খানেক ব্লক খেয়ে GRE, TOEFL এর বই কিনে, হায়ার স্টাডির ধ্যানে বসে। আরো কিছুদিন পরে, কোন রকমে টেনেটুনে পাশ করে ফেলতে পারলে, বিদেশ সফরের ধ্যান বাদ দিয়ে মাল্টিন্যাশনালের চাকরি খুঁজে।

এই সব স্বপ্ন, সখ, সখী, GRE বা চাকরি-বাকরি কোনটার পিছনেই আমরা বেশি দিন লেগে থাকতে পারিনা। দুই দিন কোন একটা জিনিস নিয়ে গুঁতাগুঁতি করলে, তৃতীয় দিন আর খবর থাকে না। আরো কয়েকদিন চেষ্টা করে, সফল হওয়ার রাস্তায় বিশাল সাইজের চ্যালেঞ্জ দেখলে, ভয়ে প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলে, হাফ প্যান্ট খুলে উল্টা পথে দৌড় মারি। আসলে সখ বা স্বপ্নের লাফালাফি মেইন সমস্যা না। বরং আসল সমস্যা অন্য দুই জায়গায়।

এক, ইচ্ছাটা মজবুত না। ইচ্ছা মজবুত থাকলে, চ্যালেঞ্জ যত বিশাল হোক না কেনো লক্ষ্যের পিছনে লেগে থাকতে পারবেন।

আর দ্বিতীয় সমস্যা হচ্ছে, কাজে ঝাপ দেয়ার আগে কাজটাকে ডিফারেন্ট এঙ্গেল থেকে না দেখা। কেউ একজন কোন একটা কাজ খুব সহজেই করে ফেলতে পারলেই, কাজটাকে অনেক সহজ মনে করা যাবে না। বরং চিন্তা করে দেখতে হবে, ঐ কাজটা ওত সহজে করে ফেলার দক্ষতা অর্জন করতে গিয়ে তাকে কি লেভেলের পরিশ্রম করা লাগছে, কি পরিমাণ নাকানি চুবানি খাওয়া লাগছে। কতো সংগ্রাম, সাধনা করা লাগছে।

বাস-টেম্পুর ড্রাইভারের সীটে বসে, সামনের দিকে তাকিয়ে, স্টিয়ারিং এর ডাণ্ডা নাড়ানোর কাজটাকে সহজ ভেবে ড্রাইভিং করা শুরু করে দিলে, ভয়ংকর বিপদে পড়াই স্বাভাবিক। সেজন্য হুট করে ড্রাইভ করতে বসার আগে বুঝে নিন, ড্রাইভিং শিখার আগে অন্যরা কিভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা প্রাকটিস করেছে। বাস-টেম্পুর হেলপারি-কন্টেকটারি করছে। একটু একটু করে স্টিয়ারিং ধরতে শিখে, আজকের এই লেভেলে এসেছে। তাই আপনিও সখ বা স্বপ্নের পিছনে ছোটার আগে, ঐ লাইনের এক্সপার্টদের এক্সপার্ট হবার আগের পরিশ্রম, সাধনা, চেষ্টা সম্পর্কে আইডিয়া নিন। তাদের চাইতে দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। দেখবেন, উড়োজাহাজের স্পিডে, বাস-টেম্পুর আগেই লক্ষ্যে পৌঁছে গেছেন।

 

সুত্রঃ ঝংকার মাহবুব

Leave a Reply