exam preparation

পরীক্ষার সিজন ::

সেইভ করা আর চুল কাটা কমায় দেন, যাতে সবাই বুঝতে পারে আপনার পরীক্ষার সিজন চলতাছে। কোথাও ট্যুর, ম্যারাথন মুভি বা গেমস অফ থ্রোন, ফিফা ২০১৪, রাত্রে এক কাপের পরিবর্তে চার কাপ চা-কফি, “মন বসে না পড়ার টেবিলে” সিনেমার পোস্টার প্রোপিক মেরে মানসিক ভাবে প্রস্তুত হোন। ঘটা করে চার-পাচ জন টিচার ফাইটারের ক্লাসের নোট্ ফটোকপি করেন। এরে ওরে ফোন দিয়ে, গ্রুপ স্টাডির নামে আড্ডাবাজির জন্য, পোলাপান জোগার করার মিশনে নামেন।

লাস্ট মোমেন্ট বুদ্ধি::

প্রিপারেশন নেবার সময়ের, প্রথম ভাগ যাবে প্রোকাস্টিনেট করতে, দ্বিতীয় ভাগ প্ল্যান আর নোটপত্র জোগার করতে। শেষ ভাগ, হায় হায় কিচ্ছু পারি না, সম্মান জনক ফেল করতেও পারমু না স্টাইলে নাকি কান্না করতে। তারপর টেনে টুনে পরীক্ষার আগের রাত, না ঘুমিয়ে, সিলেবাসের ৯০% বাদ দিয়ে, কুপানোর স্বপ্ন দেখবেন। একবার এক ইঞ্জিনিয়ারের ছেলে, তার বাপরে জিগ্যেস করছে, “বাবা বাবা, দুনিয়ার সব বোমা, লাস্ট মোমেন্টে ডিফিউজ করে কেনো? আগে করতে পারেনা?” বাপ তো হতভম্ব, কি উত্তর দিবে। পাশে থেকে তার মা বলে উঠছে, তোর বাপেরে দেখস না, সারা বছর পড়ালেখার কোনো খবর নাই, খালি পরীক্ষার আগের দিন রাত্রে চোথা নিয়ে টানাটানি করলে, বুদ্ধিতো লাস্ট মোমেন্টেই গজাবে।

কলম বা পেন্সিল দিয়ে পয়েন্টার ::

সারা বছর যত্ত ফাকিবাজি করেন না কেনো। পরীক্ষার আগের কয়েক দিন একটু সিস্টেমেটিক এপ্রোচে প্রিপারেশন নিলে পুরা সেমিস্টারের পাপ থেকে সহজেই রেহাই পেতে পারেন। সিলেবাস ঠিক মত জানেন না, ক্লাসটেস্টে কোনো মার্কস নাই, টেক্সট বই কি সেটাও জানেন না। প্যানিকড হবার কিচ্ছু নাই। ডোন্ট স্টাডি হার্ড, স্টাডি স্মার্ট।

মিনিমামটা বের করার উপায় ::

১. ডিটেল প্ল্যান বানানো যাবে না। প্ল্যান জিন্দেগীতে এক্সিকিউট করতে পারেন নাই, এইবারও পারবেন না। বরং একটা সিম্পল আউটলাইন বানান। যদি পরীক্ষার বিশ দিন বাকি থাকে, ফার্স্ট পরীক্ষার জন্য কয়েকদিন বাকি রেখে, মাঝে দুই একদিন ব্যাকআপ রেখে, জাস্ট কোন সাবজেক্টে কয়দিন সময় দিবেন সেটা ঠিক করেন। কোন একটা সাবজেক্টে বেশি দূর আগাইতে না পারলে, ঐটা নিয়ে পড়ে থাকা যাবে না। অন্যটা শুরু করে দেন।

২. কোন সাবজেক্টে, ফার্স্ট খুঁজে বের করতে হবে, মিনিমাম কতুটুকু পড়লে, পরীক্ষায় যতগুলা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, সেগুলা দিতে পারবেন। এই মিনিমামটা বের করার তিনটা উপায় আছে। প্রথম এবং মোস্ট ইফেক্টিভ হচ্ছে, সব ক্লাসেই দুই-একজন থাকে, যে সারা বছর পড়ে না কিন্তু জিনিসগুলা কেম্নে জানি ভালো বুঝে এবং মোটামুটি ভালো গ্রেড পায়। সে কিন্তু ক্লাসের আতেল বা বেস্ট রেজাল্টধারী না। অনেক সময় ক্লাসে স্যাররা ইম্পর্টেন্ট প্রশ্নের হিন্টস দেয়, সেটা ক্লাসনোট যে ভালো করে তুলে, তার কাছ থেকে জানতে হবে। আর লাস্ট হচ্ছে, গত কয়েক বছরের প্রশ্ন ঘেটে ট্রেন্ড খুঁজে বের করা।

চ্যাপ্টার অল্টারনেট ::

৩. আমরা সিলেবাসের প্রথম থেকে পড়তে শুরু করি। এইটার সমস্যা হচ্ছে, শুরুর দিকের জিনিস গুলা, সেমিস্টারের শুরুতে পড়ায়ছে। এখন সেগুলার ডিলিট হয়ে গেছে, পড়তে গেলে, পড়া এগুতে চায় না। সহজেই বোরর্ড হয়ে, পড়া ছেড়ে দেই। তাই কিছুক্ষণ পিছন থেকে এক চ্যাপ্টার আবার ঐটা শেষ হইলে সামনে থেকে আরেক চ্যাপ্টার অল্টারনেট করে চালাতে হবে।

৪. আপনি এতদিন যত্ত কিছু পড়েছেন বা এখন যা পড়তেছেন তার সব কিন্তু মনে থাকবে না। কারণ, আপনি সারা জীবন যা খাইছেন সেটা যেমন জীবন শরীরে বহন করতে পারবেন না। তেমনি সারা জীবন যা পড়ছেন তা মনে থাকবে না। তাই পড়ার সময় একটা শর্টলিস্ট বানাতে হবে, যেটা বইয়ের পিছনে রাখবেন। তাইলে পরেরবার রিভাইজ দিতে গেলে, ইম্পর্টেন্ট জিনিস, এমনকি এই সামারি লিস্ট খুজতে টাইম লাগবে না।

আন্ডা দিমু ::

৫. কোনো কিছু বুঝতে না পারলে বা কারো হেল্প লাগলে, সেটার জন্য তৎক্ষনাত যাইতে হবে বা গুগলা করতে হবে, এমন কথা নাই। একটা লিস্ট বানায়, সামনে আগাইতে থাকেন। এমন যদি হয় যে, কোনোভাবেই ছুটাতে পারতেছেন না, জোশ আসতেছে না। তাইলে এই সাবজেক্ট রেখে দিয়ে, অন্য সাবজেক্ট শুরু করেন। আবার উল্টা ইফেক্ট ও হয়, আজকের টার্গেটের বেশি পড়ে ফেল্লে, খুশিতে লাফানোর দর্কার নাই। কালকের টার্গেট যে, অর্ধেক ছুইতে পারবেন তার গ্যারান্টি নাই। তাই, ফ্লো ধরে রেখে চালায় যান।

৬. পড়তে বসলে ফোকাস থাকে না। মন আকুপাকু করে। দূর থেকে ফেইসবুক হাতছানি দিয়ে ডাকে, “কাছে আয়, আন্ডা দিমু”। নিজেকে কন্ট্রোল করতে হবে। দর্কার হইলে, জোড় করে, প্রথম প্রথম ২০ মিনিট, তারপর ৩০ মিনিট, শেষমেষ ৪০ মিনিট বা একঘন্টা টেবিলে থাকতে হবে। ফোন সাইলেন্ট করা থাকবে। তারপর উঠে হাত পা ঝাকি দিয়ে, আঙ্গুলে মোচড় দিয়ে বাজি ফুটিয়ে, চোখে পানি দিয়ে বা বাথরুম সেরে আসেন। কিন্তু ৪০ মিনিটের মধ্যে উঠা যাবে না। কোনকিছুর জন্য পাচ মিনিট পর পর উঠে যাওয়া যাবে না। খাওয়ার বা প্রয়োজনীয় জিনিস হাতের কাছে রাখেন। যদি আপনি চিপস বা কোক খাওয়ার ইচ্ছে বেশি হয় তাইলে সেগুলা এনে টেবিলের পাশেই রাখেন। যাতে বার বার উঠে যাওয়া না লাগে। তারপরেও যদি, টেবিলে বেশিক্ষণ থাকতে না পারলে দড়ি দিয়ে টেবিলের সাথে পা বেধে ফেলেন। চেয়ারের সাথে সুপার গ্লু মারেন।

হোয়াট দ্যা ফুচকা ::

৭. আপনার আউটলাইন (কুইক প্ল্যান) সামনের ওয়ালে রাখেন। যাতে আপনার লক্ষ্য বার চোখের সামনে ভেসে উঠে। একটা মুভিতে দেখছিলাম, কীপ ট্রাইং হার্ড কথাটা একটা কাগজে লিখে সিলিং এর মধ্যে লাগায় দিছে। পড়তে পড়তে টায়ার্ড হয়ে গিয়ে চেয়ারের উপর মাথা রেখে ঘুমাইতে গেলে, সিলিং এর ঐ জিনিস চোখে পড়ে। সেটা দেখে আবার পড়তে শুরু করে। ওয়াও।

৮. পড়াশুনা করতে গেলে ডিস্ট্রাকসন কিভাবে কমাবেন তার জন্য আর্ট অফ আতলামি (পার্ট -২) দেখেন। প্রোকাস্টিনেশন কমাতে, প্রোকাস্টিনেশন কমানোর ৭ টা উপায় পড়ুন। প্রিপারেশন নেবার সময় সামারি লিস্ট বানাবেন জন্য আর্ট অফ আতলামি (পার্ট-১) দেখেন। পুরা প্রসেসটা এনজয় করার জন্য রিওয়ার্ড সিস্টেম চালু করতে পারেন। ধরেন একটা সাবজেক্ট পড়ে শেষ করে ফেলছেন। এইবার নিজেরে সাবাস বলতে বলতে এক প্লেট ফুচকা উপহার দেন। তখন হোয়াট দ্যা ফুচকা ভিডিও এর কথা মনে করার চেষ্টা থেকে সংযত থাকুন।

নিরাপদ দুরুত্ব ::

৯.নন প্রোডাক্টিভ টাইমগুলাতে যেমন, বাথরুম, গোসল, নাস্তা খাওয়া বা মুরব্বিদের ঝাড়ি শুনার টাইমে রিভাইজ দিতে হবে। টিউশনিতে যাওয়ার পথে, বাসে সীট না পেলেও দাড়িয়ে আরামসে পড়া যায়। কোনো সীটের হাতলে ঠেস দিয়ে দাড়াতে হবে তাইলে বামে বা ডানে বাস হালকা কাত হলে সীটের সাথে ঠেস বা পা দিয়ে সেটা ঠেকানো যাবে। একটা পা একটু সামনের দিকে আরেকটা একটু পিছনের দিকে দিতে হবে। হঠাৎ ব্রেক করলে সামনের পা দিয়ে আর আচমকা টান দিলে সামনের পা দিয়ে সামলাবেন। তাইলে হাত দিয়ে ডান্ডা বা সীট, কিচ্ছু ধরা লাগবে না। আরামসে দাড়িয়েই বইয়ের পাতা বা চোথা উল্টাতে পারবেন।

১০. পড়া বুঝার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে, অন্য কাউরে বুঝানো। বা অন্যদের জন্য নোট তৈরী করা। কারণ অন্য কাউরে বুঝতে গেলে বা ওর কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে আপনার কনসেপ্ট আরো ক্লিয়ার হবে। তবে, পোলাপান খুব বেশি বিরক্ত করলে, হল ছেড়ে লাইব্রেরি বা অন্য কোন ক্লাসরুম বা হলের রিডিং রুমে চলে যান। মাঝে মধ্যে মোবাইল বা ফেইসবুক বন্ধ করে নিরাপদ দুরুত্ব বজায় রাখতে পারেন।

মনের মাধুরী মিশিয়ে ফুল মার্কস ::

১১. পরীক্ষার হলে, পুরো টাইম প্ল্যানটা আগে করতে হবে, শেষ ১৫ মিনিট বাদ দিয়ে। কোন প্রশ্নের উত্তর কোনো অবস্থাতেই নিদৃষ্ট টাইমের বেশি লেখা যাবে না। উত্তর লেখার আরো সখ থাকলে, জায়গা খালি রেখে (পরে টাইম পাইলে এসে লিখবেন) পরের উত্তরে যেতে হবে। আপনি যতক্ষণ টাইম নিয়ে একটা প্রশ্ন খুব ভালো করে লিখলে ৮ এর জায়গায় ৯ পাবেন কিন্তু ওই সময়ে অন্য আরেকটা প্রশ্নের উত্তর দিলে টেনেটুনে ১০ এর মধ্যে ৪ পাবেন। নীট লাভ ৩ মার্কস। নিজে ভালো করে পড়ছেন বলে, ৩ মার্কসের উত্তর ১০ মার্কসের সাইজে লেখা যাবে না। লজিক আগেরটাই। এইভাবে প্ল্যান করলে, সময়ের অভাবে উত্তর দিয়ে আসতে পারি নাই টাইপ অবস্থা হবে না। বরং উত্তর না জানলেও মনের মাধুরী মিশিয়ে ফুল মার্কস লিখে আসতে পারবেন। সুন্দর হস্তে কয়েক লাইন লেখা দেখে টিচার ফালতু এনসারেও কিছু দিল দরিয়া টিচার মার্কস দেয়। চেষ্টাতো করছে।

১২. পরীক্ষার প্রিপারেশন ভালো থাকলেও টেনশন লাগবে, না থাকলেও টেনশন লাগবে। তাই সিজনাল নামাজী হয়ে যান এবং পরীক্ষার হলের আশেপাশে খুঁজে না পাইলে, দুরে গিয়ে হলেও কোন দানবাক্সে বা ভিক্ষুকরে দশ টাকা দ্যান।

 

সুত্রঃ ঝংকার মাহবুব

Leave a Reply